প্রকাশিত:
২০ জানুয়ারী, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বছরের শুরুতেই বিশাল এক সুখবর এল। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের আর কোনো প্রকার ‘ভিসা বন্ড’ (Visa Bond) বা আর্থিক জামানত জমা দিতে হবে না। পূর্ববর্তী প্রশাসনের প্রস্তাবিত এই বিতর্কিত শর্তটি বর্তমান শিক্ষাবর্ষ থেকেই পুরোপুরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
তবে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি১/বি২) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নতুন করে ভিসা বন্ডের শর্ত কার্যকর হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বার্তায় মার্কিন দূতাবাস জানায়, এফ বা এম ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করছেন—এমন শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা বন্ড প্রযোজ্য নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের মেয়াদে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আসা শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত একটি ‘সিকিউরিটি বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে। মূলত পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা যেন নিজ দেশে ফিরে যান, তা নিশ্চিত করতেই এই বন্ডের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন নির্দেশনায় এই শর্তটিকে ‘শিক্ষাবান্ধব নয়’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের মতে, ভিসা বন্ডের মতো কঠোর শর্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত করছিল।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত একজন শিক্ষা পরামর্শক বলেন, "বন্ড সিস্টেম থাকলে অনেক শিক্ষার্থীই আবেদন করা কমিয়ে দিত। এই সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হওয়া সহজ হবে।" এদিকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনকারী এক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী জানান, "বন্ডের টাকা জোগাড় করা আমাদের জন্য বড় টেনশন ছিল। এখন আমরা অনেক বেশি নিশ্চিন্ত।"
যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করল যে, তারা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে চায়। ভিসা বন্ড বাতিল হওয়ার ফলে ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।